৫০ শয্যা বিশিষ্ট্র দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগের ছাদের প্লাস্টার ধ্বসে তিনজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে জরুরি বিভাগ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। বুধবার (১৬সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় এই ঘটনা ঘটে।
জানাগেছে, ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পুরাতন ভবনটি পাকিস্তান আমলের তৈরি। এই ভবনটি রুর্যাল ডিসপেন্সারি (আরডি) অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হতো। দেশ স্বাধীনের পর সারা দেশের মত ফুলবাড়ী আরডি অফিসও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে। প্রথমে পুরাতন ভবনে ৩১ শয্যা পর্যায়ক্রমে নতুন আরেকটি ভবনসহ ৫০শয্যায় রুপান্তর করা হয়। তবে পুরাতন ভবনটি দির্ঘদিনের কারনে ঝুকিপুর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা ভবনটি দ্রুত সংস্কারের দাবী তুলেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে রোগীরা ভীড় করছেন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগীরা এসেছেন জরুরি সেবা নিতে। জরুরি বিভাগের ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখা যায়, ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে, চিকিৎসা সেবা বন্ধ রয়েছে। ছাদের অনেকটা অংশ খসে পড়েছে। খসে পড়া স্থানে পুরনো ও মরিচা ধরা রড বের হয়ে আছে। ছাদের রড দেখে অনুমান করা যায় ভবনের অবস্থা কতটা ভয়াবহ। এই ছাদের উপর তলায় হাসপাতালের আবাসিক বেড থাকায় ঝুঁকির মাত্রা অনেক বেশি। এ ঘটনায় জরুরি বিভাগের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকায় ভুতুড়ে পরিবেশে চিকিৎসা সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।
আগত রোগী ও স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই জরাজীর্ণ ভবনের এর আগেও সংস্কার কাজ করা হয়েছে। কিন্তু ভবনগুলো অনেক পুরনো হওয়ায় সংস্কার স্থানেই ধ্বসে পড়ছে। জরুরি ভাবে এই ভবন সরিয়ে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি করেন তারা।
চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার বেতদিঘী ইউনিয়নের বড়নগর এলাকার আতিয়ার রহমানের পরিবারের লোকজন তাকে নিয়ে এসেছেন মাথায় রক্তাক্ত অবস্থায়। কিন্তু হাসপাতালের জরুরি বিভাগ বন্ধ থাকায় উৎকন্ঠায় পড়েন তারা। জাহানারা খাতুন তার ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুকে নিয়ে এসেছেন। কিন্তু হাসপাতালের এমন অবস্থায় নিরুপায় হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। একই ভাবে জরুরি বিভাগের সামনে অসংখ্য রোগীদের অবস্থান লক্ষ্য করা যায়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সহ-সেবক (ব্রাদার) রফিকুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালের এই ভবনটি অনেক পুরনো। এর আগেও ছাদের প্লাস্টার খুলে পড়েছিল। দু বছর আগে সংস্কার করা হলেও আজ সংস্কার করা সেই প্লাস্টারও খুলে পড়েছে।
তিনি বলেন, ছাদের ভারি প্লাস্টার খুলে সরাসরি আমার মাথায় পড়ে। তবে ছাদের নিচে প্লাস্টিকের সেলিং বোর্ড থাকায় মাথায় পড়া মাত্রই সিমেন্টসহ তা পিছলে মাটিতে পড়ে যাই। ফলে কিছুটা জখম হলেও অল্পের জন্য রক্ষা হয়। এসময় পাশে থাকা কয়েকজন রোগী আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করে ওঠে। তাদের মধ্যে দুজন আঘাতপ্রাপ্ত হয়। তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
এবিষয়ে জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান এর কক্ষে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি রংপুরে আছেন বলে জানানো হয়। আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. আলমগীর কবিরকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে এড়িয়ে যান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্রে মেডিকেল অফিসার সাজেদুর রহমান সাজু জানান, ভবনটি অনেক পুরনো হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। এই ভবনের উপর তলায় আবাসিক রোগীরা ভর্তি থাকে। এই ঘটনার পর জরুরি বিভাগ সাময়িক বন্ধ থাকলেও পরে পাশের কক্ষে রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ছাদের প্লাস্টার ধ্বসে পড়ার বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।