যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখে ভারতসহ ১০ দেশ

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখে ভারতসহ ১০ দেশ

ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধের রাশিয়ার তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। সেই তেল কেনা নিয়ে নতুন করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে যাচ্ছে ভারতসহ বিশ্বের ১০টি দেশ। এসব দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে পারে ওয়াশিংটন।

সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা বিলের নতুন এক সংশোধনীতে তেল বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত দেশগুলোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপের এই সুযোগ রাখা হয়েছে। নির্ধারিত অবকাশের কয়েক দিন আগে প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি উত্থাপনের সময় এই সংশোধনী আনা হয়।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সংশোধনীটি সিনেটে পাস হওয়া বিলের সংস্করণের তুলনায় বড় পরিবর্তন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিলটির চূড়ান্ত ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।

গত ৭ আগস্ট মার্কিন সিনেটে পাস হওয়া সংস্করণে কোনো দেশের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে ‘পরিমাণের দিক থেকে তেল ও গ্যাসের বৃহত্তম পাঁচটি আমদানিকারক’ দেশের মতো একটি সাধারণ বিবরণ ব্যবহার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রতিনিধি পরিষদে সংশোধনীটি পাস হলে এই ১০ দেশের নাম উল্লেখ করা হয়।

সংশোধনীর আগে জোরালোভাবে ধারণা করা হতো যে, নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে যাওয়া দেশগুলোর তালিকায় ভারত ও চীনের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসম্যান স্টেনি হোয়ার ভারতের নাম উল্লেখ করে সংশোধনীটি এনেছেন। এতে ১০টি দেশকে ১০০ শতাংশ শুল্কের আওতায় আনার জন্য যোগ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

দেশগুলো হলো চীন, ভারত, তুরস্ক, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি, স্লোভাক প্রজাতন্ত্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান ও কিরগিজ প্রজাতন্ত্র।

‘রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আইন’ নামে পরিচিত বৃহত্তর বিলটি গত মাসে সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে পাস হয়। এখন এটি প্রতিনিধি পরিষদে রয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নির্ধারিত অবকাশ শুরু হওয়ার আগে বিলটি নিয়ে কাজ করার জন্য প্রতিনিধি পরিষদের হাতে আর চার কার্যদিবস রয়েছে।

বিলটির লক্ষ্য রাশিয়ার নেতা, দেশটির জ্বালানি খাত এবং মস্কোকে বিদ্যমান তেল নিষেধাজ্ঞা এড়াতে যে জাহাজাগুলো সহায়তা করছে বলে ওয়াশিংটন মনে করে, সেগুলোর ওপরই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, রাশিয়ার তেল বাণিজ্য থেকে পাওয়া রাজস্ব ইউক্রেনের যুদ্ধে অর্থায়নে সহায়তা করছে।

বিলটি আইনে পরিণত হলে রাশিয়ার বড় তেল বাণিজ্য অংশীদারদের (যার মধ্যে ভারতও রয়েছে) ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে যেতে পারে।

তবে সব আইনপ্রণেতা এই শুল্ক পরিকল্পনার পক্ষে নন। ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসম্যান গ্রেগরি মিকস বিলের ১১৩ ধারা পুরোপুরি বাদ দেওয়ার জন্য একটি সংশোধনী প্রস্তাব করেছেন। এই ধারায় রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের ব্যাপক ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আরও তিনজন আইনপ্রণেতা তার সংশোধনীতে যোগ দিয়েছেন।

মিকস আরও প্রস্তাব করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় মনে হলে প্রেসিডেন্ট কোনো ব্যক্তির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা একবারে ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করতে পারবেন। এই স্থগিতাদেশ নবায়নযোগ্য হবে। পৃথক আরেকটি সংশোধনীতে তিনি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও পরিষেবার জন্য ইউক্রেনকে ১৫ বিলিয়ন ডলারের সরাসরি ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন।

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত